Let's Discuss!

লিখিত পরীক্ষা বিষয়ক
#1861
- বাংলা ৩ মার্কের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

*** মাইকেল মধুসূদন দত্তকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয় কেন ?
- উনিশ শতকের সময়কে চিন্তা করলে একজন কবি হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তকে তাঁর সময়ের থেকে অন্তত এক শতাব্দী অগ্রবর্তী মনে হয়। তাঁর কাব্যদর্শনে উনিশ শতকের সমাজ-সংস্কৃতি যেভাবে ছিল তাকে ছাপিয়ে বিশ শতকের পরেও এখনকার সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। তাঁর লেখকসত্তায় একজন কবি, মহাকবি, পত্রকাব্য রচয়িতা, সনেট রচয়িতা, নাট্যকার, প্রহসন রচয়িতা ইত্যাদির যোগফল আছে। উনিশ শতকে একসঙ্গে এত লেখার সন্নিবেশন খুব একটা দেখা যায় না। অনেক উপাদানের মধ্যে বর্তমান প্রবন্ধে কিছু উপাদানকে ঘিরে তাঁর সাহিত্যসাধনার মৌলিক দিক খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। মধুসূদন তাঁর শিল্পসৃজনে স্রোতের বিপরীতে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে বিভিন্ন সাহিত্য উপকরণে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সমাজ কাঠামো বা চিন্তার কাঠামোতে হরহামেশা যে ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায় তার থেকে বেরিয়ে তিনি আলাদাভাবে তাকে সাজানোর সাধনা করেছেন। এ সাধনা তাকে দর্শনের দিক থেকে শিল্প-সাহিত্য সৃজনে অন্যরকম বিদ্রোহী করেছে। সে বিদ্রোহের বীজে আছে ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম ইত্যাদি।

সবকিছু একসঙ্গে করলে মধুসূদন উনিশ শতকের সে বিদ্রোহে তাঁর সব সাহিত্যপ্রয়াসের
মাধ্যমে প্রথম আধুনিক লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি ।
.
*** বুড়োসালিকের ঘাড়ে রোঁ’ প্রহসনটির জমিদার চরিত্রের পরিচয় দিন। [৩৭তম বিসিএস লিখিত]
- ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনা করেন দুটি প্রহসন; নাম ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ এবং ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’। সমাজ এবং মানুষকে তীক্ষ্মভাবে আক্রমণ করা হয়েছে প্রহসন দুটিতে । রচনার সময় অবশ্য দ্বিতীয় প্রহসন ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’-এর নাম ছিল ‘ভগ্ন শিব মন্দির’। পরে নাম পরিবর্তন করা হয়।
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের শ্রেষ্ঠ প্রহসনমূলক নাটক ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’। সমাজের শাসক শোষিতের বৈষ্যমের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নাটকটিতে। নাটকটিতে দেখা যায় জোতদার ভক্তপ্রসাদসম্পদের পাহাড় গড়েছে রায়তদের শোষণ করে। লাম্পট্য ও কৃপণতার মতো বদগুণ থাকা সত্ত্বেও অর্থের জোরে সে হয় সমাজপতি। গরিব চাষি হানিফেরফসলহানি হলেও সামান্য খাজনায়ও মাফ করে না ভক্তপ্রাসাদ। ফলে কৃষকের সম্বল একখানি জমি গ্রাস করেত দ্বিধা করে না।

এমনকি কৃপণ ভক্তপ্রাসাদ পুরোহিত বাচস্পতির মা মারা গেলেও তার মাতৃদায় হতে মুক্ত হওয়ার জন্য পাঁচ টাকার বেশি সাহায্য করতে সে নারাজ। এ হেন ভণ্ড নরাধম ভক্তপ্রসাদকেও জব্দ করা যায় কীভাবে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নাটকটিতে।

*** মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন দুটির বর্ননা দাও ।

বাংলা সাহিত্যে সর্বৃপ্রথম সফল প্রহসন রচয়িতা মাইকেল মধূসূধন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) । তিনি যখন গম্ভীর রসের নাটক লিখছিলেন তখনই আবার ফাঁকে ফাঁকে দুখানি’ প্রহসন লিখে প্রতিভার পরিচয় দেন।একখানি হলো ‘ একেই কি বলে সভ্যতা’ (১৮৬০) আর অন্যখানি হলো ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ (১৮৬০)। ডক্টর অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ প্রথমখানিতে ইংরেজী শিক্ষিত ভ্রষ্টচার তরুণ যুবকদের কদাচারকে শানিত রঙ্গব্যঙ্গ এর ভাষায় দারুণ কশাঘাত করা হয়েছে, দ্বিতীয়খানিতে তথাকথিত প্রাচীন ব্রাহ্মণ-সমাজপতিদেরক চরিত্র ও লাম্পট্য খুব রসালভাবে বর্ণিত হয়েছে। ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ পুরোপুরি রঙ্গরসের প্রহসন , কাহিনী নামমাত্র। কিন্তু ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ তে ক্ষীণভাবে কাহিনীও অনুসৃত হয়েছে। প্রথমটিতে নাগরিক কলকাতার তরুন সমাজ ও দ্বিতীয়টিতে গ্রাম্য বাংলার ধর্মধব্জী বৃদ্ধ এর আক্রমণ স্থল। তৎকালীন সমাজ, ব্যাক্তি, তাদের কদর্য চরিত্র ও নীতিভ্রষ্টতা কবি এমন কৌতুক ও ব্যঙ্গের মধ্যদিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, বহুদিন কেউ তাঁকে এ বিষয়ে অতিক্রম করতে পারেন নি।” ‘বড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ প্রহসনের আবহ পুরোপুরি দেশজ। যশোর -খুলনা-চব্বিশ পরগনা অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহারের ফলে তা যথেষ্ট অর্থপূর্ণ হয়েছে।
ডক্টর অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ে
র ভাষায়- “গম্ভীর রসের নাটকেল মধুসূধন দত্ত কতদূর সফল হয়েছেন সে বিষয়ে তর্ক চলতে পারে, কিন্তু প্রহসন দুখানিতে তাঁর যে অসাধারণ ক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে, তার জন্য বাংলা নাট্যসাহিত্য তিনি দীর্ঘজীবী হয়ে থাকবেন ” ।

*** মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাধবধ কাব্যের পরিচয় দিন ।
- মেঘনাদবধ কাব্য ১৯-শতকীয় বাঙালি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা একটি মহাকাব্য।এটি ১৮৬১ সালে দুই খণ্ডে বই আকারে প্রকাশিত হয়। কাব্যটি মোট নয়টি সর্গে বিভক্ত। মেঘনাদবধ কাব্য
হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণ অবলম্বনে রচিত, যদিও এর মধ্যে নানা বিদেশী মহাকাব্যের ছাপও সুস্পষ্ট।১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনী নিয়ে একই ছন্দে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি । এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য। আর কোন রচনা না থাকলেও মধুসূদন এই একটি কাব্য লিখেই অমর হয়ে থাকতে পারতেন। এই কাব্যের মাধ্যমেই তিনি মহাকবির মর্যাদা লাভ করেন এবং তাঁর নব আবিষ্কৃত অমিত্রাক্ষর ছন্দও বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। রামায়ণে বর্ণিত অধর্মাচারী, অত্যাচারী ও পাপী রাবণকে একজন দেশপ্রেমিক, বীর যোদ্ধা ও বিশাল শক্তির আধাররূপে চিত্রিত করে মধুসূদন উনিশ শতকের বাঙালির নবজাগরণের শ্রেষ্ঠ কবির মর্যাদা লাভ করেন। এক্ষেত্রে তিনি ভারতবাসীর চিরাচরিত বিশ্বাসের মূলে আঘাত হেনে প্রকৃত সত্য সন্ধান ও দেশপ্রেমের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, বাংলা সাহিত্যে তা তুলনাহীন।

*** মাইকেল মধুসূদন দত্তের বীরাঙ্গনা কাব্যের পরিচয় দিন ।
.মধুসূদনের কাব্যে এক ধরনের নারীবিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যায়। তাঁর কাব্যের নায়িকাদের মধ্য দিয়ে যেন যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত, অবহেলিত, আত্ম সুখ-দুঃখ প্রকাশে অনভ্যস্ত ও ভীত ভারতীয় নারীরা হঠাৎ আত্মসচেতন হয়ে জেগে ওঠে।
তারা পুরুষের নিকট নিজেদের ভাল-মন্দ, সুখ-দুঃখ এবং কামনা-বাসনা প্রকাশে হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। তাঁর বীরাঙ্গনা (১৮৬২) পত্রকাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে। এখানে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে। নারীচরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।

*** বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক বিয়োগাত্মক নাটকের পরিচয় দাও ।

- কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১), মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বা্ংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক।

নাটকটির কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত হয়েছে। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: কৃষ্ণকুমারী,মদনিকা,বিলাসবতী, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ,মানসিংহ
,ধনদাস প্রমুখ। নাটকটি ১৮৬০ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃষ্ণকুমারী নাটকে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন কৃষ্ণকুমারী নিজে। নাটকে কাহিনী প্রবাহিত হয় মদনিকা এবং ধনদাস চরিত্রের মাধ্যমে।নাটকের মূল বিষয়বস্তু হল কৃষ্ণকুমারীর নিজের জীবন বিসর্জন।কৃষ্ণকুমারী রূপে গুণে অনন্য। তার একটি চিত্রপট দেখে জগৎসিংহ তাকে বিবাহ করার জন্য ব্যাকুল হয়েপড়ে।ধনদাসের মাধ্যমে ভীমসিংহের কাছে রাজা জগৎসিংহ কৃষ্ণার বিবাহের পয়গাম পাঠান।ধনদাস এই নাটকে একটি হীন চরিত্র সে টাকার জন্য সব করতে পারে। নাটকের মদনিকা চরিত্র হল বিলাসবতীর সখী। ধনদাস হল জগৎসিংহের নারী সংগ্রহকা।
.
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার। তাঁকে বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব গণ্য করা হয়।
॥॥॥
.*** ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাহরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় কেন ?

- ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্য সাহিত্যে কিংবদন্তি প্রবাদ পুুরুষ। তিনি উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা গদ্য রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। জ্ঞান সাধনায় তিনি ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী। সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর প্রাণ ছিল অপরিসীম। ইংরেজিতেও তিনি বেশ পারদর্শী ছিলেন। তাঁর আগেও বাংলা গদ্য ছিল। কিন্তু গদ্যের ছন্দপ্রবাহ, ধ্বনিময়তা ও ভাষায় শব্দ ব্যবহারের যে নিপুণতা তা তখনও আবিষ্কৃত হয়নি। বিদ্যাসাগরই প্রথম তা সম্পাদন করেন। তিনি যতিচিহ্ন ব্যবহার করে ভাষাকে বোধগম্য ও শ্রুতিমধুরতা দান করেন। ভাব অনুযায়ী ভাষার ব্যবহার করে বক্তব্য বিষয়কে করে তোলেন আকর্ষণীয়। এ জন্য তাঁকে বাংলা গদ্যেরজনক বলা হয়।

*** ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের গদ্যরীতির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করুন।
উত্তর : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সর্বপ্রথম বাংলা গদ্যে নতুনত্ব আনয়ন করেন। তাঁর গদ্যরীতির বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ :
১. তিনি গদ্যকে অনাবশ্যক সমাসাড়ম্বর থেকে মুক্ত করেন।
২. গদ্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মধ্যে অংশ যোজনার সুস্থ নিয়ম প্রতিষ্ঠিত করেন।
৩. বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে সর্বপ্রকার ব্যবহার করেন।
৪. গদ্যের ভাষাকে সাবলীল ও শ্রুতিমধুর করেন।
৫. গদ্যের পদগুলোর মধ্যে ধ্বনি সামঞ্জস্য বিধান করেন।
৬. গদ্যের গতির মধ্যে একটি অনতিলক্ষ ছন্দস্রোত আবিষ্কার করেন।
৭. যথাযথ ব্যবহার ও সরল ভাষার আমদানি করে বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতা প্রদান করেন।

*** প্রশ্ন : বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কারবিষয়ক গ্রন্থ রচনাবলীর নাম লিখুন।
উত্তর : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তৎকালীন সমাজ সংস্কারের ব্যাপারে সম্পৃক্ত ছিলেন। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তাঁর প্রবন্ধ ধর্মী গ্রন্থে। তাঁর সমাজ সংস্কারমূলক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হচ্ছে- বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫), বহু বিবাহ রোহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার (১৮৭১)।
প্রশ্ন : বিদ্যাসাগরের স্কুল পাঠ্যবিষয়ক গ্রন্থগুলোর নাম লিখুন।
উত্তর : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত স্কুল পাঠ বিষয় গ্রন্থগুলো হল,
সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমনিকা (১৮৫১),
বর্ণ পরিচয় (১৮৫৫),
কথামালা (১৮৫৬),
আখ্যান মঞ্জুরী (১৮৬৩) ও
বোধোদয় (১৮৫১)।
॥॥॥
- হুমায়ুন হিমু
৪০ তম লিখিত পরীক্ষার্থী
    long long title how many chars? lets see 123 ok more? yes 60

    We have created lots of YouTube videos just so you can achieve [...]

    Another post test yes yes yes or no, maybe ni? :-/

    The best flat phpBB theme around. Period. Fine craftmanship and [...]

    Do you need a super MOD? Well here it is. chew on this

    All you need is right here. Content tag, SEO, listing, Pizza and spaghetti [...]

    Lasagna on me this time ok? I got plenty of cash

    this should be fantastic. but what about links,images, bbcodes etc etc? [...]