লিখিত পরীক্ষা বিষয়ক
#1206
উক্ত পর্বের মূল অালোচ্য বিষয়:ফিলিস্তিন তথা জেরুজালেম দখলের উদ্দেশ্যে সমগ্র খ্রিষ্টান বিশ্ব কতৃক মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড তথা ধর্ম যুদ্ধের সূচনা।

এক সময়ে সমগ্র বিশ্বে সৌর্যবীর্য ছড়ানো আব্বাসীয় খিলাফতের(৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) যখন অন্তিমকাল, সেই সাথে ইসলামের বিধিবিধান,আদেশ-নিষেধ ভুলে গিয়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও জাতীরা যখন দ্বিধাবিভক্ত তখনি অমুসলমানরা সুযোগের সদ্ব্যবহার হিসেবে মুসলমানদের সমূলে ধূলিসাৎ করতে উঠে পড়ে নেমেছিল।
আমি সেই একাদশ-ত্রয়োদশ শতকের কথাই বলছি।যখন ইসলামের অন্যতম পবিত্র ভূমি জেরুজালেম দখল করার উদ্দেশ্যে অমুসলিমরা বিশেষ করে সমগ্র খ্রিস্টানজাতী ক্রুসেড তথা ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করে।
ক্রুসেডের নামকরণ সম্পর্কে মুহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন"খ্রিস্টিয় একাদশ শতাব্দীর শেষ দশক হইতে আরম্ভ করিয়া প্রায় দুই শতাধিক বৎসর কাল নানা কারণে উদ্বুদ্ধ হইয়া খ্রিস্টান জগৎ মুসলিম জাহানের উপর উন্মত্ত আক্রমণ মুসলিম বিশ্বের এক বিশাল অংশ দখল করে ও লক্ষলক্ষ মুসলিম নরনারীর প্রাণনাশ করে।যুগান্তকারী খ্রিস্টান জগতের এই উন্মত্ততাকে ক্রুসেড যুদ্ধ বলা হয়।আর এই যুদ্ধে অমুসলমানদের বিরুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছিল তারা ক্রুসেডার নামে পরিচিত।যেহেতু ক্রুসেডারগণ বুকের উপর লোহিত বর্ণের ক্রুশ চিহ্ন ধারণ করিত তাই এই যুদ্ধকে ক্রুসেডের যুদ্ধ বলা হইত।
সূত্র:আরব জাতীর ইতিহাস-পৃষ্ঠা,২৯২.

৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে হযরত উমর র. খিলাফতে ইসলামের বিজয়গাঁথা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।যেখানে মানবজাতি নির্যাতিত হয়েছিল সেখানেই মুসলমানরা শান্তিরক্ষক হিসেবে এগিয়ে। গিয়েছিল।মুসলিম বিজয় পূর্বে ভারত আর স্পেনের অবস্থার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই।
একই ভাবে খলিফা ওমরের রা. বীর সেনাপতি আমর ইবনে আল আস তৎকালীন রোমান শাসনকর্তা হিরাক্লিয়াস কতৃক নিযুক্ত জেরুজালেমের শাসক আরতাবুনকে পরাজিত করে জেরুজালেমকে মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত করে।সেই থেকে জেরুজালেম বিভিন্ন মুসলিম সাম্রাজ্য এবং রাজবংশ দ্বারা শান্তিপূর্ণ ভাবে শাসিত হয়ে আসছিল।

তারপরও কেন এই ক্রুসেড?
এর পেছনে বেশকিছু কারণ অন্তর্নিহিত।
প্রথমত,তৎকালীন মিসরের শিয়া ফাতেমীয় খলিফা আল হাকিম এবং সেলজুক তুর্কীদের খ্রিস্টানদের প্রতি অপব্যবহারের ফলে ইইরোপীয় খ্রিস্টানজাতী বিচলিত এবং ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে।কতিপয় মুসলিম শাসকের এই ভুলের মাশুল দিতে হয় সমগ্রজাতিকে।
দ্বিতীয়ত, বর্তমান ক্ষমতাহীন,মিষ্টভাষী ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপরা তখন ছিলেন ক্ষমতালোভী,অত্যাচারী, স্বার্থবাদী।অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ছাড়াও নিজেদের খ্রিস্টানজাতীর গ্রীক খ্রিস্টানদের পর্যন্ত অত্যাচার,নিপীড়ন করত।ক্যাথলিক আর গ্রীক খ্রিস্টানদের মধ্যে ধর্মীয় প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারকে উপলক্ষ করে দ্বন্ধ এবং সংঘাত বাধত। যেমনটা বর্তমানে মুসলামানদের মাঝে শীয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব আমরা দেখছি।
এখানে উল্লেখ্যে যে, যখন মুসলিমবিশ্ব দলমত নির্বিশেষে এক ছিল তখন অমুসলিমরা ছিলা দ্বিধাবিভক্ত।সেই সময়ে মুসলমানদের কোন অমুসলিম সাম্রাজ্য এবং শাসক আক্রমণ করার সাহস পেত না।
বর্তমানে তারা এক, তাদের মাঝে রয়েছে হিন্দু-বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ আর আমরা দ্বিধাবিভক্ত আমাদের মাঝে রয়েছে শীয়া-সুন্নি, ওয়াহাবি মতানৈক্য তাই এখন পৃথিবীর অধিকাংশ অমুসলিম দেশের মুসলমানরা নিপীড়িত, অত্যাচারীত।যদি মুসলিমবিশ্ব এক হত!ইসরাইল নামের অবৈধ রাষ্ট্র এবং সন্ত্রাসী ইহুদিরা কখনো নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারত না।
যাই হোক, ক্রুসেডের সমসাময়িক পোপের ক্ষমতা তলানিতে পৌঁছেছিল, তার ব্যাক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি এবং প্রভাবপ্রতিপত্ত
ি বৃদ্ধির স্বার্থের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জেরুজালেমকে।জেরুজালেম তথা খ্রিস্টানধর্ম রক্ষার জন্য পোপ সমগ্র খ্রিস্টানজাতীকে মুসলিমবিশ্বের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে ক্রুসেড ঘোষণা করে।অতঃপর তৎকিলীন ধর্মান্ধ উগ্র খ্রিস্টানজাতীর অধিকাংশ এতে অংশ নেয় পরবর্তীতে ভয়াবহ ক্রুসেডের সূচনা হয়।

তৃতীয়ত, খ্রিস্টানধর্মের প্রবর্তক ঈসার আঃ. জন্মভূমি ফিলিস্তিন তথা জেরুজালেমের বায়তুললাহাম মুসলামানদের থেকে উদ্ধার এবং মুসলিম বিশ্বের বিজয় অভিযান রুধ করে ইসলাম ধর্মের প্রভাব ক্ষুণ্ণ করতে সমগ্র খ্রিস্টানজাতী মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা করে।
চতুর্থত, সমসাময়িক বায়জান্টাইন গ্রীক সম্রাট আলোকসিয়াস কমনেসাসের বেশকিছু রাজ্যে দখলের পর সেলজুক তুর্কিরা বায়জান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল ( বর্তমানে তুরস্কের রাজধানী “ইস্তানবুল”) অভিযান প্রেরণ করলে সম্রাট ভীতিগ্রস্ত হয়ে পোপ দ্বিতীয় আরবানের সহোযোগিতা প্রার্থনা করে।
রোমান ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ, গ্রীক প্রোটেস্টিক খ্রিস্টানদের উপর অাধিপত্য বিস্তারের কথা ভেবে পোপ দ্বিতীয় আরভান ১০৯৫ সালের নভেম্বর মাসে ফ্রান্সের ক্লারমন্ট শহরে একসভায় খ্রিস্টান শাসকদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধে ঘোষণা এবং এতে যোগদানের আহবন জানান।

উপরিউক্ত কারণ এবং পোপ ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পাপমোচন ও স্বর্গলাভের প্রতিশ্রুতিদানের ফলে শতধাবিভক্ত জগৎ ভেদাভেদ ভুলে মুসলিমনিধনের উদ্দেশ্যে সমগ্র ইউরোপ থেকে খ্রিস্টানজাতী কনস্টান্টিনোপলে একত্রিক উপরিউক্ত কারণ এবং পোপ ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পাপমোচন ও স্বর্গলাভের প্রতিশ্রুতিদানের ফলে শতধাবিভক্ত জগৎ ভেদাভেদ ভুলে মুসলিমনিধনের উদ্দেশ্যে সমগ্র ইউরোপ থেকে খ্রিস্টানজাতী কনস্টান্টিনোপলে একত্রিক উপরিউক্ত কারণ এবং পোপ ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পাপমোচন ও স্বর্গলাভের প্রতিশ্রুতিদানের ফলে শতধাবিভক্ত জগৎ ভেদাভেদ ভুলে মুসলিমনিধনের উদ্দেশ্যে সমগ্র ইউরোপ থেকে খ্রিস্টানজাতী কনস্টান্টিনোপলে একত্রিক উপরিউক্ত কারণ এবং পোপ ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পাপমোচন ও স্বর্গলাভের প্রতিশ্রুতিদানের ফলে শতধাবিভক্ত জগৎ ভেদাভেদ ভুলে মুসলিমনিধনের উদ্দেশ্যে সমগ্র ইউরোপ থেকে খ্রিস্টানজাতী কনস্টান্টিনোপলে একত্রিক হতে থাকে।
১০৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার খ্রিস্টান সৈন্য কনস্টান্টিনোপলে একত্রিত হয় এবং এখান থেকে (বর্তমান পৃথিবীর সভ্য জাতী)খ্রিস্টান সেনাপতিদের নেতৃত্বে মুসলিম সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আক্রমণ, হত্যাযজ্ঞ,ধর্ষণ এবং লুন্ঠন চালাতে শুরু করে।

খ্রিস্টানদের প্রতিরোধ করার মত ক্ষমতা সেই মুহুর্তে মুসলিমদের ছিলনা। কেননা তখন মুসলিমবিশ্ব এবং মুসলিমজাতির অস্তিত্ব সংকটের মুখে।ইসলামের মহান বাণী ভুলে গিয়ে নিজেদের মাঝে সংঘাত এবং বিভিন্ন মতাদর্শে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছিল।
প্রথমত,তৎকালীন ইরাক-সিরিয়ার আব্বাসীয় খলিফারা ছিল নামেমাত্র খলিফা, তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করত সেলজুক তুর্কীরা।
দ্বিতীয়ত,উত্তর আফ্রিকা-মিশরের ফাতেমীয় খিলাফতও প্রায় পতনমুখে।
যখন মুসলিমবিশ্বের অস্তিত্ব সংকটের মুখে,অমুসলিমরা ইসলামকে চিরতরে ধ্বংসসাধনে ব্যাস্থ তখনি ইসলাম ধর্মের রক্ষাকর্তা মহান আল্লাহ, মুসলিম বীর সেনানীদের প্রেরণ করেন ইসলাম এবং মুসলিমজাতির প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে।তাদের মধ্যে ইমাম উদ্দীন জগ্ঙী(১১২৭-৪৬খ্রি.),নূরদ্দীন জঙ্গী এবং গাজী সালাউদ্দীন(১১৮৭-৯৩) ছিলেন অন্যতম।

তারা তৎকালিন পরাশক্তিদের(ইংল্যান্ড,ইটালি,ফ্রান্স,জার্মান) পরাজিত করে জেরুজালেমকে পুনরায় মুসলমানদের অধিনস্থ করে।বর্তমানে মুসলিমবিশ্বে তাদের মত নেতা নেই বলে মুসলিমজাতির এই দুর্দশা। প্রকৃতপক্ষে, আমরা যদি মহানঅাল্লাহ'র দেওয়া বিধিবিধান মেনে চলতাম আমাদের এই দুরবস্থার মধ্যদিয়ে কখনো যেতে হত না।কেননা ইসলামে বলেনি,মদ পান, অবৈধভাবে নারী ভোগ(হারাম প্রথা) এবং উচ্চবিলাসি জীবনযাপন করতে।এই সব কারণেই মুসলিম শাসকেরা তাদের অবস্থান হারিয়ে পথেপথে ঘুরছে এবং অমুসলমানদের আশ্রিতা হয়ে জীবনযাপন করছে।
অতএব,সেই সোনালী দিনে ফিরে যেত পারব তখনি, আমরা যদি আমাদের সরল-সঠিক পথে ফিরিয়ে যেতে সক্ষম হয়,মহান আল্লাহ অবশ্যয় তার বান্দাদের জানমালের ক্ষতি দিয়ে পরিক্ষা।

সংগৃহিতঃ- H Md Imran Hossain

★ আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি --- শুটকী মাছ। ★ হাড়[…]

মাহমুদ হাসান হৃদয় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যা[…]

মোবাইল থেকে বিডিচাকরি খুব সহজে ব্যবহার করার জন্য